অনলাইন ডেস্ক: ট্রান্সফরমার চুরি রোধে চরম ব্যর্থতা ও চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে অপসারণ করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণ ও আদেশের পর তাঁকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক জানান, আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও এ বদলি সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়াকে গুরুতর ও আমলযোগ্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার শামিল বলে পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত ওসি কামরুল হাসানকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা সার্ভিস বুকে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে বলা হয়।
আদেশে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া পল্লী বিদ্যুতের ২৩টি চুরির আবেদন পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার সাড়ে তিন মাসে ২৫টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথক এজাহারের আবেদন করেন। ওসি এর মধ্যে দুটি মামলা নিলেও বাকি ২৩টি আবেদন ঝুলিয়ে রাখেন। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ওসি দাবি করেন, আবেদনে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য না থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। তবে আদালত নথি পর্যালোচনা করে ওই জবাবকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রতিটি আবেদনে চুরির স্থান, তারিখ এবং খোয়া যাওয়া ট্রান্সফরমারের পিন বা সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ ছিল। গত ১ মে থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে ২৫টি চুরির আবেদন করা হলেও আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদন চাওয়ার আগে ওসি কোনো পদক্ষেপ নেননি বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে আদালত জানায়, জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি চুরির তথ্য পাওয়ার পরও এফআইআর না করা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা। এতে ওসি কামরুল হাসান ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা লঙ্ঘন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ২১৭ ধারা এবং দ্য পুলিশ অ্যাক্টের ২৯ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও রায়ে বলা হয়।




