অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়ায় এক হিন্দু যুবতী মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করার প্রায় ১১ মাস পর শ্বশুরবাড়ির পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মনপুরা উত্তর পূর্বপাড়া মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়াকান্দি গ্রামের মনোরঞ্জন সরকারের মেয়ে প্রায় ১১ মাস আগে ধর্ম পরিবর্তন করে মনপুরা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল্লাহর ছেলে রাব্বীকে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে করেন। স্বামী প্রবাসে চলে যাওয়ার পর নবমুসলিম মরিয়মের ওপর শাশুড়ি আমেনা বেগম ও খালু আব্দুর রশিদ নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় এক যুবদল নেতার বাড়িতে নিয়ে গ্রামের কয়েকজন সালিশের মাধ্যমে মরিয়মকে ডিভোর্সের কথা বলে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, রাব্বী বর্তমানে প্রবাসে থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে মরিয়মকে ডিভোর্সের কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। ঘটনার পর মেয়ের পরিবার ছেলের পরিবারের ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলেও তারা জানান।
মরিয়ম আক্তারের ভাষ্য, বিয়ের পর চার মাস আগে রাব্বী প্রবাসে গেলে তার শাশুড়ি ও চাচা শ্বশুর তার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা কাবিনের খরচ দেওয়ার কথা বলে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাষ্টার বলেন, আব্দুর রশিদের আমন্ত্রণে তিনি ওই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। তবে তার শুনতে পাওয়া মতে, মরিয়ম সংসার করবেন না—এমন কারণেই ডিভোর্স দিয়েছেন।
অভিযুক্ত আল-আমিন বলেন, রাব্বীকে তিনি ছোটবেলা থেকে মানুষ করেছেন এবং হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই; অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




