অনলাইন ডেস্ক: অক্টোবর ইংরেজি ক্যালেন্ডারের নবম মাস এবং বাংলা ঋতুচক্রের শরৎকাল। শরতের আকাশের রং, রূপ ও গন্ধের সীমাহীন সম্মোহন, মেঘের স্তরে সাজানো সাদা ও হালকা নীলের নানা রূপ—সকাল, দুপুর কিংবা বিকেলে আকাশের দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি অক্টোবরকে বিশেষ করে তোলে।
অক্টোবর এলেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব দুর্গাপূজার ঢাকের আওয়াজ, চারপাশের আলোর রোশনাই ও কাশফুলের উপস্থিতি নতুন শুরুর ইঙ্গিত দেয়।
অক্টোবরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিউলিও। কমলা বোঁটার সাদা পাপড়ি নিয়ে ঝরে পড়া শিউলি এবং এর হালকা ঘ্রাণ শরতের স্বতন্ত্র আবহ তৈরি করে। ঝরে পড়া শিউলি কুড়িয়ে নেওয়ার মুহূর্তকে লেখক নিজের জন্য একটি শুভ্র সকাল তুলে নেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
শরৎ মানে বদলে যাওয়া বাতাস ও কোমল অনুভূতি। সময় গড়ানোর সঙ্গে আবহে মিশে থাকে না উষ্ণ, না শীতল—এমন এক মৃদু ও মায়াবী পরশ। বাংলাদেশের প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে শরতের নরম উপস্থিতি তাই বিশেষভাবে অনুভূত হয়।
বাংলা সনের প্রবর্তন
বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে মুঘল সম্রাট আকবরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর রাজসভার জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পণ্ডিত আমির ফতেউল্লাহ সিরাজী চন্দ্র ও সৌর বর্ষপঞ্জির ১১ দিনের জটিলতা দূর করতে এই ক্যালেন্ডার তৈরি করেন।
ক্যালেন্ডারটির নাম দেওয়া হয় তারিখ-ই-ইলাহি বা ফসলি সন। ফসল ও খাজনা আদায়ের উদ্দেশ্যে এটি চালু করা হয়েছিল। সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের দিন ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে, বাংলা ১৫৫৬ সাল থেকে এটি কার্যকর হয়।
লেখকের কাছে শরৎ ও অক্টোবর একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব। শিউলি কুড়িয়ে আনার স্মৃতি থেকে অক্টোবর তাঁর কাছে আকাশ দেখা, বাতাসের গন্ধ নেওয়া, মেঘের সঙ্গে কথা বলা এবং পৃথিবীর নৃশংসতা ভুলে থাকার সময় হয়ে উঠেছে।




