28.4 C
Bangladesh
শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম
#ভারত থেকে আনা চালে আফলাটক্সিন শনাক্ত, ৯ হাজার ৫০০ টন বিতরণ স্থগিত#এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ#এক-দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষার সুযোগ#এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই ফেল#কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী শরীফ তালুকদারের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু#স্বপন মাহমুদের পদত্যাগে আবেগঘন শাহমাহমুদপুর বিএনপির সভা#সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহরাস্তির প্রবাসী শাহ আলমের মৃত্যু#মতলব পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরুর দাফন সম্পন্ন#রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু#চাঁদপুর ট্যাক্সেস বারে ঢাকা ট্যাক্সেস বারের আইনজীবীদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ভারত থেকে আনা চালে আফলাটক্সিন শনাক্ত, ৯ হাজার ৫০০ টন বিতরণ স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক: ভারত থেকে আমদানি করে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সরকারি গুদামে রাখা চালের নমুনায় সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান ‘আফলাটক্সিন’-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর অধিকতর পরীক্ষার জন্য ওই চালানের বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরীন আক্তার জাহান বলেছেন, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা চালে আফলাটক্সিন তৈরি হতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নমুনায় শনাক্ত উপাদান সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। তবে এই মাত্রা অতিক্রম করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপোর চালের স্তূপ থেকে ব্রির তিন সদস্যের একটি দল নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় হালিশহর এবং ঢাকার একটি সরকারি গুদামের চালের নমুনায় আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর ওই চালান থেকে গ্রহণ করা পুরো ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ বন্ধ করে খাদ্য অধিদপ্তর।

হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, খাদ্য কর্মকর্তারা এই লটের চাল দুবার পরীক্ষা করেছেন এবং বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ডিপোতে পৌঁছায়নি। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক রেজওয়ান সাকিবও বিতরণ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক পরীক্ষায় ছাড়পত্র

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি টন ৩৫৩ দশমিক ১১ ডলার দরে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তির অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল চালটি সরবরাহ করে। প্রায় ১০ হাজার ৮৭৮ টন ওজনের চালান নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদনে চাল মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে ঘোষণা করা হলে ২৪ ও ২৫ জুলাই খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গুদাম কর্মকর্তারা চালানের একাংশের মান নিয়ে উদ্বেগ জানান। নিম্নমানের অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৩৭৮ টন চাল বন্দর থেকেই জাহাজে ফেরত পাঠানো হয় এবং ৯ হাজার ৫০০ টন চাল গ্রহণ করা হয়। এরপর খাদ্য অধিদপ্তর অধিকতর পরীক্ষার ব্যবস্থা করে এবং মহাপরিচালক এম জসিম উদ্দিন খান পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ স্থগিতের নির্দেশ দেন।

তবে আফলাটক্সিন পাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাংলাদেশি খাদ্য কর্মকর্তা ও সরবরাহকারীর যৌথভাবে সংগৃহীত নমুনা ভারতের একটি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে চুক্তির শর্ত পূরণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ব্রিতে পরীক্ষা করা সিলগালা যৌথ নমুনায় কোনো আফলাটক্সিন পাওয়া যায়নি বলে তাদের জানানো হয়েছিল।

সরবরাহকারীর শিপিং এজেন্ট সেভেন সিজ শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আকবর অভিযোগ করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ এখনো বিষাক্ত উপাদানটির সুনির্দিষ্ট ঘনত্ব, চিহ্নিত চালের বিষয়ে ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য গুদামে অতিরিক্ত পরীক্ষা চালানো হবে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম জসিম উদ্দিন খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ