27.6 C
Bangladesh
রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম
#হাজীগঞ্জে বিএমে সেরা সরকারি মডেল পাইলট, আলিমে জিপিএ-৫ আহমাদিয়া মাদ্রাসায়#শাহরাস্তিতে এইচএসসি পরীক্ষায় অর্ধেকের বেশি অকৃতকার্য#হাইমচরে জিপিএ-৫ পেলেন ৩ শিক্ষার্থী, পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ#হাজীগঞ্জে এইচএসসি ভোকেশনালে পাসের হার ৭৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন#কচুয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া মাইসার স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা#জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নির্মূল সম্ভব নয়: শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক#বাবুরহাট দক্ষিণ দাসদীতে রাস্তা বন্ধ, ভোগান্তিতে অর্ধশতাধিক পরিবার#ভারত থেকে আনা চালে আফলাটক্সিন শনাক্ত, ৯ হাজার ৫০০ টন বিতরণ স্থগিত#এইচএসসিতে ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ#এক-দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষার সুযোগ

অচল দুই পা নিয়েও অনার্স শেষ করেছেন রুবেল, অপেক্ষা কর্মসংস্থানের

অনলাইন ডেস্ক: মাত্র দুই বছর বয়সে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই পা অচল হয়ে যায় মো. রুবেল মিয়ার। এরপর থেকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না তিনি; হামাগুড়ি দিয়ে বা কখনো বাবার কাঁধে চড়ে চলতে হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বাধা হতে না দিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেছেন রুবেল। এখন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

রুবেল মিয়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের পূর্ব ঘুঘরাকান্দী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ইব্রাহিম মিয়া এবং মা প্রয়াত ময়না বেগম। নিজ বাড়ির পাশের ব্র্যাক স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ২০১৮ সালে উত্তর নাকশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে হাজী নূরুল হক নন্নী-পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালে নালিতাবাড়ী সরকারি নাজমুল স্মৃতি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

রুবেলের শিক্ষাজীবন সহজ ছিল না। এসএসসি পাসের আগেই তিনি মাকে হারান। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেও বাবার সহযোগিতা ও নিজের ইচ্ছাশক্তিতে পড়াশোনা চালিয়ে যান।

রুবেল জানান, পড়াশোনার খরচ চালাতে ছাত্রজীবনে হাঁস-মুরগি পালন করেছেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা দিয়েও শিক্ষার ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেছেন। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা অর্জনকে জীবন বদলের হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছেন তিনি।

এখন তার স্বপ্ন সমাজের বোঝা না হয়ে স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চাকরি বা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন রুবেল।

কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, রুবেল হার না মানা এক যুবক। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করবেন বলেও জানান তিনি।

শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রুবেল সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। রুবেল কম্পিউটার জানলে তাকে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

রুবেলের প্রত্যাশা, যোগ্যতা অনুযায়ী একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে নিজের জীবন বদলের পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও নিতে পারবেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ