অনলাইন ডেস্ক: ফরিদগঞ্জের চরমান্দারী গ্রামের ফয়েজ আহমেদের পরিবারের দুর্দশা শুধু জমি নিয়ে বিরোধ বা ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকার ঘটনা নয়; এটি মানবিকতা, আইনের প্রয়োগ এবং অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশ্নও তুলে ধরেছে। পাকা ঘরের স্বপ্নে নির্মাণকাজ শুরু করেও পরিবারটি এখন পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়িতে দিন কাটাচ্ছে। ঘরের চালের ফাঁক দিয়ে দিনের আলো ও রাতের জোছনা ঢুকলেও তা তাদের জীবনে স্বস্তি আনতে পারছে না।
একজন শ্রমজীবী বৃদ্ধের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, প্রবাসী ছেলের উপার্জন এবং পরিবারের নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ঘরটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। মামলা ও বিরোধের জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়োবৃদ্ধ সদস্যদের অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে।
আইনি নিষ্পত্তির পাশাপাশি মানবিক সহায়তা
জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালত ও আইন রয়েছে। কারও জমির অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। তবে বিরোধের প্রকৃত স্বরূপ ও দাবির যৌক্তিকতা নির্ধারণ আদালতের দায়িত্ব। উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। কোনো বিরোধের কারণে নিরপরাধ ও অসহায় মানুষকে অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য করা উচিত নয়।
ফয়েজ আহমেদের পরিবারের ক্ষেত্রে বিরোধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির উদ্যোগ প্রয়োজন। আদালতের এখতিয়ার ও নির্দেশনা বজায় রেখে প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা দরকার। জমির সীমানা ও মালিকানা যাচাইয়ের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা এবং সাময়িক মানবিক সহায়তার ব্যবস্থাও জরুরি।
ঝুপড়ি ঘরে বসবাসের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকদের আশঙ্কা রয়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার আগে তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা দরকার। প্রয়োজনে জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
জমির বিরোধ আইনের পথে নিষ্পত্তি হওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাও জরুরি। মামলা চলতে পারে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় লাগতে পারে; কিন্তু একটি বৃদ্ধ, শিশু ও একটি পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ের অধিকার অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষায় রাখা উচিত নয়।




