অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। আউটার স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, লন টেনিস কোর্ট ও বাস্কেটবল কোর্টসহ আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রকল্পগুলোর কাজে গতি ফেরায় স্বস্তি ও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে ইনডোর স্টেডিয়ামসহ প্রধান স্থাপনাগুলোর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সাঁতার, টেনিস, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসসহ বিভিন্ন খেলায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়বে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরকে পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রীড়া অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় পাঁচ বছর আগে উন্নয়ন প্রকল্পটি নেওয়া হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রায় ১৮ মাস কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থগিত কাজ পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে নির্দেশনা ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন জনু জানান, বন্ধ থাকা কাজগুলো এখন পুরোদমে চলছে। সুইমিংপুল, লন টেনিস কোর্ট ও বাস্কেটবল কোর্টের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইনডোর স্টেডিয়ামের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে; এর অগ্রগতি প্রায় ৯৫ শতাংশ। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ করে স্টেডিয়াম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আশা করা হচ্ছে।
আউটার স্টেডিয়ামের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, কাজ প্রায় শেষের দিকে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্ব হলেও চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টেডিয়াম হস্তান্তর করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থাপনাগুলো চালু হলে চাঁদপুর থেকে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইনডোর গেমসের সুযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইনডোর স্টেডিয়ামে তিনটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট, টেবিল টেনিস, হ্যান্ডবল ও দাবা খেলার সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সারা বছর অনুশীলন ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে অনুমোদিত নকশা ও চূড়ান্ত প্রকল্প বিবরণী অনুযায়ী অন্যান্য ইনডোর গেমস যুক্ত হবে কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় কয়েকটি ছোট প্রবেশপথ খোলা থাকায় সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াতের বিষয়টি নজরে এসেছে। নির্মাণকাজ চলাকালে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে কিছু মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রকল্পগুলো চালু হলে চাঁদপুরের শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সুইমিংপুল চালু হলে সাঁতার শেখার সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। টেনিস ও বাস্কেটবল কোর্ট নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।




