অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী রেলস্টেশনসংলগ্ন তালতলা বাজারে রেলওয়ের জমি দখল করে ফের মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাজারের দক্ষিণ পাশে তুষার খান নামের এক ব্যক্তিকে রেলওয়ের জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে বিশাল মার্কেট গড়ে তুলতে দেখা গেছে। একই এলাকায় রেলওয়ের জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে নতুন করে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ের কৃষি লিজ নেওয়া জমিতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের এমন কর্মকাণ্ডে সরকারি সম্পত্তির ব্যবহার ও লিজের শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মৈশাদী তালতলা বাজার এলাকায় রেলওয়ের সম্পত্তিতে একাধিক দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মহিউদ্দীন খান তপন ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা জমিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। কোথাও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ এবং কোথাও মাটি ভরাট করে নতুন মার্কেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগকারীর দাবি, রেলওয়ের কাছ থেকে কৃষিকাজের জন্য লিজ নেওয়া জমি নির্ধারিত শর্তের বাইরে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, জমির সীমানা, লিজের শর্ত এবং স্থাপনা নির্মাণের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে মহিউদ্দীন খান তপন বলেন, এগুলো তাঁদের বাপ-দাদার সম্পত্তি এবং পরে তাঁরা রেলওয়ে থেকে কৃষি লিজ নিয়েছেন। তিনি মার্কেট করার কথা জানান। বক্তব্য নেওয়ার সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে তাঁর ভাইকে সাংবাদিকদের চলে যেতে বলতে বলেন।
রেলওয়ের জমিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ওঠা তুষার খানের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মারুফ হোসেন জানান, বিষয়টি রেলওয়ের স্টেট বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
রেলওয়ে লাকসাম জংশনের কানুনগো মনোয়ার হোসেন বলেন, রেলওয়ের কোনো সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কেউ জমি লিজ নিয়ে থাকলে লিজের শর্ত ও জমির ব্যবহার যাচাই করা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে লিজ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সচেতন মহল মৈশাদী তালতলা বাজার ও রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জমিতে মাটি ভরাট, দোকান নির্মাণ এবং মার্কেট তৈরির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জমির সীমানা, কৃষি লিজের শর্ত, স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।




