অনলাইন ডেস্ক: হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ ও আহমাদ আলী ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি এবং ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন, ফেসবুক, অনলাইন, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত এস্টেটে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপতৎপরতা চালানোর অভিযোগ তুলে একটি অভিহিতকরণ প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি প্রতিপক্ষ চক্র প্রশাসনিক দপ্তরে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ, সম্পত্তি ও অর্থ-স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জীবনের হুমকি ও নিয়মিত হয়রানির মুখে পড়ছেন। এস্টেটের সঙ্গে দেনাদার ঠিকাদারসহ চারজনের মামলা চলমান রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে মো. কবির হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, পি.বি.আইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং চাঁদপুর আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে এসব বিষয় আদালতে বিচারাধীন।
আজাদ রহমান মাসুদ মজুমদারের তিনটি ঘরের জন্য জমা দেওয়া ৩৮ লাখ টাকার বিপরীতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দাবির বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়। মোহাম্মদ আলাল হোসেনের বিরুদ্ধে কবরস্থানের জায়গায় মালিকানা দাবির অভিযোগ এবং মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে হিসাব-সংক্রান্ত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে।
মো. মিজান ব্যাপারীর কাছে ২০২২ সালের কাজের হিসাব চেয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নোটিশ দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এস্টেটের উন্নয়ন ও আর্থিক সংকট
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেট ১.১৯ একর সম্পত্তি দিয়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ৯.৭০ একর সম্পত্তিতে উন্নীত হয়েছে। এতে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা, জামিয়া আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রাসা, হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মুনিরিয়া নূরানী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া হাজীগঞ্জ প্লাজা মার্কেট, হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, কাওমী মাদ্রাসা মার্কেট, রজনীগন্ধ্যা মার্কেট, রজনীগন্ধা এক্সটেনশন এবং হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নির্মাণাধীন প্রকল্পে ঠিকাদার, হিসাবরক্ষক ও ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজশে অর্থ সরানোর অভিযোগও এতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণাধীন ভবনের জন্য ইসলামী ব্যাংক থেকে দুই ধাপে ৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বরাদ্দ গ্রহীতাদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে এস্টেট সংকটে পড়েছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ব্যাংক ঋণের ৫ কোটি টাকা পরিশোধ এবং বসতবাড়ি ব্যাংকে মর্টগেজ রাখার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ওয়াকফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী ও পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্টের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।




