অনলাইন ডেস্ক: হাম-রুবেলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে মসজিদভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
৪ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে হাম-রুবেলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে আয়োজিত অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।
সভায় যুগ্ম-সচিব ও মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, পরিচালক (সমন্বয়) মো. মহিউদ্দিন, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম স্বাগত বক্তব্য দেন। সভার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ইউনিসেফের সিনিয়র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ডা. মো. শামছুজ্জামান। এতে হাম-রুবেলার বর্তমান পরিস্থিতি, টিকাদানের গুরুত্ব, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধর্মীয় নেতা ও ইমামদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
ইপিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব সরকার হাম-রুবেলার পরিস্থিতি ও টিকাদান কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, শিশুদের হাম ও রুবেলার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে নির্ধারিত সময়ে টিকা নেওয়া জরুরি।
টিকাদান নিয়ে ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি দূর করতে ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে সভায় মত দেওয়া হয়। মসজিদভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিভাবকদের শিশুদের টিকা দিতে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য টিকাদান কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জনসচেতনতা তৈরিতে দেশের মসজিদ, ইমাম ও খতিবদের সম্পৃক্ত করে প্রচার-প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং কর্মসূচি সফল করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে মতামত দেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পরিকল্পনা ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন ইউনিসেফ বিসিওর এসবিসি অফিসার এ আর এম এম কামাল। সভা শেষে কর্মসূচির সফলতা কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




