অনলাইন ডেস্ক: শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের স্বজনদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হারানোর আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে—এমন অভিযোগে হাসপাতালটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকা মানুষের নিরাপত্তাহীনতার সুযোগে চুরির ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২১ অক্টোবর গভীর রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এক রাতেই অন্তত আটটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের স্বজনেরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোর চক্র এসব সামগ্রী নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকার পরও কীভাবে একাধিক রোগীর জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চুরির অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় গৃহীত উদ্যোগের কার্যকারিতা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের প্রধান দায়িত্ব রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। রোগী ও স্বজনেরা নিজেদের মালামাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে চিকিৎসাসেবার পরিবেশও ব্যাহত হয়। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে থাকা স্বজনেরা এমনিতেই মানসিক চাপে থাকেন। চুরির ঘটনায় তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে রাতে পর্যাপ্ত প্রহরা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নজরদারি এবং কার্যকর সিসিটিভি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং চুরির অভিযোগ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।




