অনলাইন ডেস্ক: ফরিদগঞ্জে হোসেন আলী নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে লাগাতার হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মো. আওলাদ শেখ ও খোকন শেখের বিরুদ্ধে। উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্তরা সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে, আইনের অপব্যবহার ও প্রশাসনকে বারবার বিভ্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আদালত ও থানায় পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হোসেন আলীর ছোট ভাই মো. ওসমান আলী নয়নের তত্ত্বাবধানে ঢাকার মুগদা থানার মান্ডা এলাকায় একটি পাকা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর পর আওলাদ শেখ ও তাঁর সহযোগী খোকন শেখ চাঁদাবাজির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত মো. আরিফ হোসেন ও মো. মেহেদী হাসানকে একটি সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে অপহরণ করে ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয় বলে মামলার সংশ্লিষ্টদের দাবি।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় আওলাদ শেখ গংয়ের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর স্থানীয় সালিসে তাঁরা তা স্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ থানায় সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হলে আরিফ হোসেন আদালতে সিআর মামলা নম্বর ৩২০/২৫ করেন। প্রাথমিক তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত খোকন শেখের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
এরপর আওলাদ শেখ ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও মামলা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুর সদর থানায় দায়ের করা সিআর মামলা নম্বর ৭৭৬/২০২৬-এ তিনি অভিযোগ করেন, হোসেন আলী, ওসমান আলী নয়ন ও মো. হাসান শেখ ২২ ও ২৩ মার্চ ২০২৬ তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই অভিযোগে তাঁর মুরগির খামারের তিন শতাধিক মুরগি মেরে ফেলা এবং বসতঘর ভাঙচুরের কথাও বলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, শরীফ হোসেন ও ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা কামাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, আওলাদ শেখের বাড়িতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এজমালি সম্পত্তির একটি পরিত্যক্ত ঘর আওলাদ শেখ নিজেই সরিয়ে নিয়ে অভিযোগ সাজিয়েছেন এবং তাঁর বাড়িতে কখনো মুরগির খামার ছিল না বলেও দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে আওলাদ শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খোকন শেখের স্ত্রী সাথী বেগম দাবি করেন, ১২ অক্টোবর রাতে তাঁদের বসতঘরের জানালায় অজ্ঞাত কেউ ইট ছুড়েছে।
হোসেন আলীর পরিবারের সদস্য আমেনা বেগম হয়রানির প্রতিকার দাবি করেছেন। হোসেন আলীও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চান। ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মো. বোরহান উদ্দিন মজুমদার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
ডিবির এসআই মো. খাইরুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে একটি মামলার তদন্ত চলছে। ঢাকা মুগদা থানার এসআই এমদাদ হোসাইন বলেন, আওলাদ হোসেন শেখ গংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।




