অনলাইন ডেস্ক: মরহুম কাজী এফ এম নুরুন্নবী ও মরহুমা কাজী আজিজুন নাহার দম্পতির চার ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে অন্যতম রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন। ভাইবোনদের মধ্যে তিনি পঞ্চম। জমজ দুই ভাইয়ের একজন তাঁর জমজ ভাই পরান। চাঁদপুর পৌরসভার নাজিরপাড়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাজী মাইনুল হক জীবনের শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে জীবনের পরিণত পর্যায়েও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা অটুট রয়েছে।
চাঁদপুর হাসান আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরে চাঁদপুর গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল হাই স্কুল থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি, চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
১৯৮০ সালের শুরুর দিকে খালি পায়ে ফুটবল খেলার মাধ্যমে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সূচনা। স্কুল, কলেজ, চাঁদপুর লিগ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলায় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে পরিচিতি পান তিনি। বরিশালের মুলাদী, কুমিল্লা, শরীয়তপুর, ফেনী ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানেও লিগ ও টুর্নামেন্ট খেলেছেন। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছেন কাজী মাইনুল হক জীবন।
বিষ্ণুদী ক্লাব, ইউথ স্পোর্টিং ক্লাব এবং চাঁদপুর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বর্তমানে নাজিরপাড়া ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও সোনালী অতীত ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ। খেলোয়াড়ি জীবনে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেলেও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর।
১৯৮৭ সালের দিকে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলনের সময় ইউসুফ বকাউল নামের এক খেলোয়াড়ের ট্যাকেলে তাঁর পা ভেঙে যায়। ওই ইনজুরি তাঁর ফুটবলজীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। সে সময় চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ চিকিৎসা ও পরবর্তী সময়ে তাঁকে সহযোগিতা করেন।
ফুটবল পুনরুজ্জীবনে নিয়মিত প্রতিযোগিতার তাগিদ
কাজী মাইনুল হক জীবনের মতে, কয়েক বছর ধরে চাঁদপুরের ফুটবল অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ, জেলা লিগ এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা না থাকায় নতুন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। ফুটবল ক্যাম্প ও নিয়মিত অনুশীলনের ব্যবস্থাও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চাঁদপুরের ফুটবলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, টুর্নামেন্ট, ফুটবল লিগ এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জেলা প্রশাসক কাপ টুর্নামেন্ট ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ক্রীড়াচর্চা বন্ধ না হয়, সে জন্য ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ, সংগঠক ও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তরুণদের মাঠমুখী করলে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী কমিটিতে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা রয়েছে কাজী মাইনুল হক জীবনের। এ ধরনের দায়িত্ব পেলে চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করা এবং ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে কাজ করতে চান তিনি।
ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। চাঁদপুর জেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এবং চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত এপ্রিল মাসে ওপেন হার্ট সার্জারি এবং পরে কিডনিতে সার্জারি হলেও খেলাধুলা, ধর্মচর্চা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।




