30.2 C
Bangladesh
রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম

ফরিদগঞ্জে ৮ একর জমিতে মাছের পোনা উৎপাদনে সফল মোশারফ হোসেন মানিক

অনলাইন ডেস্ক: মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে মৎস্য খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সফল মাছ চাষের অন্যতম শর্ত মানসম্মত পোনা। গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে অবদান রেখে চলেছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোহাগড়া গ্রামের উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেন মানিক।

১৯৯৬ সালে অল্প পরিসরে শুরু করা তাঁর ‘পাইওনিয়ার ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারি’ বর্তমানে ৮ একর জমিতে বিস্তৃত। নিজস্ব ও লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটিতে ১০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

খামারের জলাশয়ে বাঁশের খুঁটি ও নেট দিয়ে বিশেষ ঘের তৈরি করে পোনা লালন-পালন করা হচ্ছে। শ্রমিকেরা ছোট নৌকায় পোনা সংগ্রহ, পরিচর্যা ও স্থানান্তরের কাজ করেন।

প্রতিষ্ঠানটিতে থাইল্যান্ডের থাই মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাছটি সাধারণত ৬ থেকে ৭ মাস লালন-পালন করা হয়। এক বছর পর্যন্ত চাষ করলে এর আকার ও ওজন আরও বাড়ে। তেলাপিয়ার পাশাপাশি রুই, মৃগেল, কালিবাউশ, পাঙ্গাঙ্গাশ ও কাতলাসহ বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রি করা হয়।

পোনা ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি রেণু ও মা মাছ বিক্রি করে। মৎস্যচাষিরা নিজেদের খামারের ধরন ও চাহিদা অনুযায়ী পোনা সংগ্রহ করেন। মানিকের লক্ষ্য মানসম্মত পোনা সরবরাহের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং চাষিদের লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে সহযোগিতা করা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ডা. মো. মাহমুদ-ই-এলাহী বলেন, আমিষের চাহিদা পূরণ, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে মৎস্য খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ১৯৯৬ সাল থেকে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পাইওনিয়ার ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। ৮ একর জমিতে ১০ জনের কর্মসংস্থান স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আহম্মদ আলী মিয়াজী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে পোনা উৎপাদন, পরিচর্যা, পরিবহন ও বিক্রির বিভিন্ন ধাপে কর্মসংস্থান হচ্ছে। স্থানীয় চাষিরা কাছাকাছি মানসম্মত পোনা পাওয়ায় পরিবহন খরচও কমেছে বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন মানিক জানান, পোনা বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে ১০ জন শ্রমিক খামারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত পোনার বিকল্প নেই। পোনা লালন-পালনে পানির গুণগত মান, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ জরুরি। সরকারি বিধিবিধান ও হ্যাচারি নিবন্ধন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ