অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি চারা রোপণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমার নেতৃত্বে পরিচালিত কর্মসূচিতে ৬১ প্রজাতির উন্নতমানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সোনালু, জারুল, কাঠগোলাপ, বকুল, ছাতিম, রঙ্গন, বেল, জাম্বুরা, গাব, চালতা, কদবেল, লেবু, কাউ, ডেউয়া, জাম, নিম, অর্জুন, জলপাই, কাঁঠাল, খেজুর, নারিকেল, তাল, হরীতকী, বাসক, হিজল, জামরুল, কাঠবাদাম, সেগুন, আমড়া, তমাল ও কদম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১২৬টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১৫০টি করে চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন ৫০টি এবং ৮০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন ৪০টি করে গাছ লাগানো হয়েছে।
বিভিন্ন সরকারি দফতরেও চারা রোপণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ প্রায় ১ হাজার এবং মৎস্য বিভাগ ১০০টি চারা রোপণ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ১ হাজার চারা রোপণ করা হয়। স্থানীয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চারা দেওয়া হয়েছে।
পুনর্খনন করা খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুনর্খননকৃত ‘বিশ্বখাল’, ‘চান্দ্রা খাল’ ও ‘বালিয়া খাল’-এর দুই পাড়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। চারার সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে শক্ত বেড়া নির্মাণ এবং পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, মানসম্মত চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গাছগুলো বড় হলে স্থানীয়রা ফল, ছায়া ও শুদ্ধ অক্সিজেন পাবেন। একই সঙ্গে পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের নিরাপদ আবাসস্থল এবং খাদ্যের সংস্থান হবে।
গাব গাছের উপকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গাব গাছ বড় হয়ে ফল দিলে এলাকার জেলেরা তা ব্যবহার করে জাল টেকসই ও মজবুত করতে পারবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি জানান।
বৃক্ষরোপণকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার কথা জানিয়ে ইউএনও বলেন, সদর উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করে, সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।




