অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান পৃথিবীর প্রতিটি মুহূর্ত তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে শুরু করে শিক্ষা, কাজ ও যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। এই নতুন সভ্যতায় টিকে থাকতে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ সবারই তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, আদান-প্রদান ও ব্যবহারের প্রযুক্তিকে তথ্যপ্রযুক্তি বা Information Technology (IT) বলা হয়। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর অংশ। বর্তমানে Google-এর মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রযুক্তি
করোনা মহামারি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে। হাজীগঞ্জের গ্রামের একজন শিক্ষার্থীও Coursera, YouTube ও Khan Academy-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস করতে পারে। Google Classroom, Zoom ও টেন মিনিট স্কুল শিক্ষাকে সহজলভ্য করেছে। ChatGPT ও Gemini গবেষণা, উপস্থাপনা ও অ্যাসাইনমেন্টে সহায়তা করলেও জ্ঞান অর্জনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীর নিজের।
ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং ও রিমোট জব তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
কনটেন্ট তৈরির সুযোগ
মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, ব্লগ ও পডকাস্টের জন্য কনটেন্ট তৈরি করা যায়। চাঁদপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইলিশের গল্পও কনটেন্টের বিষয় হতে পারে। CapCut, Canva, Adobe Express ও InShot ভিডিও ও ডিজাইনে সহায়তা করে। ChatGPT স্ক্রিপ্ট, ElevenLabs ভয়েসওভার এবং Leonardo AI ও Ideogram থাম্বনেইল তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আয় হতে পারে ফেসবুক মনিটাইজেশন, ইউটিউব বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে।
সতর্কতা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি
ইন্টারনেটের সব তথ্য সঠিক নয়। ভুয়া খবর সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, তাই তথ্য যাচাই জরুরি। অতিরিক্ত আসক্তি পড়াশোনা, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হ্যাকিং, প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও সাইবার বুলিং থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং অচেনা লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি কমাতে পারে।
ভবিষ্যতে ৫জি, ৬জি, Internet of Things (IoT), Augmented Reality (AR), Virtual Reality (VR), মেটাভার্স, ব্লকচেইন ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার বাড়তে পারে।
ছাত্র-ছাত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের MS Office, Canva, বেসিক ভিডিও এডিটিং ও Google Searching শেখা, ইংরেজি ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতায় পারদর্শী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সময় ভাগ করে পড়াশোনা, প্রযুক্তি শেখা ও বিনোদনের জন্য আলাদা সময় রাখা, সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অন্যের লেখা কপি না করে নিজস্ব ভাষায় কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ট্রেন্ডের বদলে মানুষের উপকারে আসে এমন কনটেন্ট তৈরি, মানসম্মত উপস্থাপনা, ধারাবাহিকতা, দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গুজব না ছড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে উপকারী, আবার ভুল ব্যবহারে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে বুঝে, যাচাই করে ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।




