অনলাইন ডেস্ক: একজন মানুষের প্রকৃত সচ্ছলতার পরিচয় কেবল তাঁর অর্থ-সম্পদে নয়; বরং সেই সম্পদ সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কতটা কাজে লাগছে, তার মধ্যেই নিহিত। অর্থবিত্ত অনেকেরই থাকে, কিন্তু সেই বিত্তকে শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে ব্যয় করার মানসিকতা সবার থাকে না। শাহরাস্তির ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আধুনিক পাঠাগার নির্মাণে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আবু ইউসুফ রুপনের উদ্যোগ তাই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।
১২৭ বছরের পুরোনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১ হাজার ৪১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বড় এই প্রতিষ্ঠানে আধুনিক পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আবু ইউসুফ রুপন নিজের অর্থে পাঠাগারটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এতে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখের বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। কাজ শেষ করতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ছয় লাখ টাকা। চার হাজার বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে পাঠাগারটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রুপন এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁর ভাষায়, ‘এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, এবার দেওয়ার পালা।’ নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর এই দায়বদ্ধতা সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যায়। যে প্রতিষ্ঠান একজন মানুষকে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে, তার প্রতি এমন বাস্তব কৃতজ্ঞতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।
পাঠাগারের গুরুত্ব
পাঠাগার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিছক একটি কক্ষ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বই পড়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের চিন্তার পরিসর বাড়ায়। এ কারণে আধুনিক পাঠাগারে বিনিয়োগকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যায়।
সমাজের বিত্তবান মানুষ সম্পদের একটি অংশ বিদ্যালয়, পাঠাগার, চিকিৎসা, দরিদ্র শিক্ষার্থী ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করলে ব্যক্তিগত সাফল্য সামাজিক সাফল্যে রূপ নিতে পারে। আবু ইউসুফ রুপনের উদ্যোগ সেই সম্ভাবনার একটি উদাহরণ।
তবে পাঠাগার নির্মাণের পর এর নিয়মিত ব্যবহার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও জরুরি। নিয়মিত পাঠাগার খোলা রাখা, সময়ের সঙ্গে বইয়ের সংগ্রহ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠচক্র ও বইপাঠ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। এতে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে।
এই উদ্যোগের শিক্ষা হলো, বিত্তের সঙ্গে চিত্তের সংযোগ ঘটলে ব্যক্তিগত অর্জন বৃহত্তর সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারে। একজন সাবেক শিক্ষার্থী তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে এসে নতুন প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের সুযোগ বাড়াচ্ছেন। অন্য বিত্তবানরাও শিক্ষা ও সমাজের প্রতি এমন দায়বদ্ধতা অনুভব করলে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেহারা বদলে যেতে পারে।




