অনলাইন ডেস্ক: নাজমুন নাহার বেবী বাংলাদেশের একজন নারী রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। প্রায় চার দশক ধরে তিনি বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর কর্মজীবন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকেন্দ্রিক।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালগিরী গ্রামে জন্ম নেওয়া নাজমুন নাহার বেবীর বাবা মরহুম মোঃ ইউনুছ খান খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং মা নুরুন নাহার বেগম গৃহিণী ছিলেন। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়।
তিনি ১৯৭৮ সালে ঢাকার তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৮০ সালে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য নিউইয়র্কে যান এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ব্রুকলিন কলেজ থেকে কম্পিউটার ইনফরমেশন সায়েন্সে ডিগ্রি নেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপিতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন শেষে তিনি বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান।
২০০৯ ও ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট বা সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদিকার দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
নাজমুন নাহার বেবী শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহধর্মিণী। তিনি কচুয়ার রহিমানগর শেখ মুজিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি চাঁদপুরের কচুয়া তেগুরিয়া ওবায়েদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হন।
বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তিনি অংশ নেন। ‘নকল প্রতিরোধ ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সংগ্রাম’ বইটি তিনি সম্পাদনা করেছেন।




